Rangpur Division

  1. রংপুর জেলা
    রংপুর নামকরণের ক্ষেত্রে লোকমুখে প্রচলিত আছে যে পূর্বের ‘রঙ্গপুর’ থেকেই কালক্রমে এই নামটি এসেছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় যে উপমহাদেশে ইংরেজরা নীলের চাষ শুরু করে। এই অঞ্চলে মাটি উর্বর হবার কারণে এখানে প্রচুর নীলের চাষ হত। সেই নীলকে স্থানীয় লোকজন রঙ্গ নামেই জানত। কালের বিবর্তনে সেই রঙ্গ থেকে রঙ্গপুর এবং তা থেকেই আজকের রংপুর। অপর একটি প্রচলিত ধারনা থেকে জানা যায় যে রংপুর জেলার পূর্বনাম রঙ্গপুর। প্রাগ জ্যোতিস্বর নরের পুত্র ভগদত্তের রঙ্গমহল এর নামকরন থেকে এই রঙ্গপুর নামটি আসে। রংপুর জেলার অপর নাম জঙ্গপুর । ম্যালেরিয়া রোগের প্রাদুর্ভাব থাকায় কেউ কেউ এই জেলাকে যমপুর বলেও ডাকত। তবে রংপুর জেলা সুদুর অতীত থেকে আন্দোলন প্রতিরোধের মূল ঘাঁটি ছিল। তাই জঙ্গপুর নামকেই রংপুরের আদি নাম হিসেবে ধরা হয়। জঙ্গ অর্থ যুদ্ধ, পুর অর্থ নগর বা শহর। গ্রাম থেকে আগত মানুষ প্রায়ই ইংরেজদের অত্যাচারে নিহত হত বা ম্যালেরিয়ায় মারা যেত। তাই সাধারণ মানুষ শহরে আসতে ভয় পেত। সুদুর অতীতে রংপুর জেলা যে রণভূমি ছিল তা সন্দেহাতীত ভাবেই বলা যায়। ত্রিশের দশকের শেষ ভাগে এ জেলায় কৃষক আন্দোলন যে ভাবে বিকাশ লাভ করে ছিল তার কারণে রংপুরকে লাল রংপুর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল।
    বিখ্যাত খাবার:
    তামাক
    ইক্ষু
    বিখ্যাত স্থান:
    পায়রাবন্দ
    তাজহাট জমিদারবাড়ি
    কেরামতিয়া মসজিদ ও মাজার
    ভিন্ন জগৎ
    ঝাড়বিশলা
    রংপুর চিড়িয়াখানা
    হাতী বান্ধা মাজার শরীফ
    চিকলির বিল
    মিঠাপুকুর তিন কাতারের মসজিদ
    ইটাকুমারী জমিদারবাড়ি
    দেওয়ানবাড়ির জমিদারবাড়ি
    বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র

  2. ঠাকুরগাঁও জেলা
    ঠাকুরগাঁও এর আদি নাম ছিল নিশ্চিন্তপুর। ঠাকুরগাঁওয়ের নামকরণের ইতিহাস সম্পর্কে আর যা পাওয়া গেছে তাহলো, বর্তমানে যেটি জেলা সদর অর্থাৎ যেখানে জেলার অফিস-আদালত অবস্থিত সেখান থেকে ৮ কিলোমিটার উত্তরে আকচা ইউনিয়নের একটি মৌজায় নারায়ণ চক্রবর্তী ও সতীশ চক্রবর্তী নামে দুই ভাই বসবাস করতেন। সম্পদ ও প্রভাব প্রতিপত্তির কারণে তারা সেই এলাকায় খুব পরিচিত ছিলেন। সেখানকার লোকজন সেই চক্রবর্তী বাড়িকে ঠাকুরবাড়ি বলতেন। পরে স্থানীয় লোকজন এই জায়গাকে ঠাকুরবাড়ি থেকে ঠাকুরগাঁও বলতে শুরু করে। ১৯৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১লা ফেব্রুয়ারী ৫টি থানা নিয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
    বিখ্যাত খাবার:
    সূর্যপুরী আম
    বিখ্যাত স্থান:
    জগদল বিরেন্দ্র নাথ চৌধুরীর পরিত্যাক্ত রাজবাড়ি
    জামালপুর জমিদারবাড়ি জামে মসজিদ
    বালিয়াডাঙ্গী সূর্যপুরী আমগাছ
    ফান সিটি অ্যামিউজমেন্ট পার্ক
    রাজভিটা
    রাজা টংকনাথের রাজবাড়ি
    হরিপুর রাজবাড়ি
    জগদল রাজবাড়ি
    প্রাচীন রাজধানীর চিহ্ন নেকমরদ
    পীর শাহ নেকমরদের মাজার
    মহালবাড়ি মসজিদ
    শালবাড়ি মসজিদ ও ইমামবাড়া
    সনগাঁ শাহী মসজিদ
    ফতেহপুর মসজিদ
    মেদিনীসাগর জামে মসজিদ
    গেদুড়া মসজিদ
    গোরক্ষনাথ মন্দির
    কূপ ও শিলালিপি
    হরিণমারী শিবমন্দির
    হরিপুর রাজবাড়ি শিবমন্দির
    গোবিন্দনগর মন্দির
    ঢোলরহাট মন্দির
    ভেমটিয়া শিবমন্দির
    মালদুয়ার দুর্গ
    গড়গ্রাম দুর্গ
    বাংলা গড়
    গড় ভবানীপুর
    গড়খাঁড়ি
    কোরমখান গড়
    সাপটি বুরুজ
  3. পঞ্চগড় জেলা
    “পঞ্চ” (পাঁচ) গড়ের সমাহার “পঞ্চগড়” নামটির অপভ্রমংশ “পঁচাগড়” দীর্ঘকাল এই জনপদে প্রচলিত ছিল। কিন্তু গোড়াতে এই অঞ্চলের নাম যে, ‘পঞ্চগড়ই’ ছিলো সে ব্যাপারে সন্দেহর কোন অবকাশ নেই। বস্তুত ভারতীয় উপমহাদেশে “পঞ্চ” শব্দটি বিভিন্ন স্থান নামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। যেমন- পঞ্চনদ, পঞ্চবটী, পঞ্চনগরী, পঞ্চগৌড় ইত্যাদি। “পঞ্চনগরীর” দূরত্ব পঞ্চগড় অঞ্চল থেকে বেশি দূরে নয়। পঞ্চগড় জেলায় বেশ কিছু গড় রয়েছে তাদের মাঝে উল্লেখ করার মত গড় হল ভিতরগড়, মিরগড়, রাজনগড়, হোসেনগড়, দেবনগড়। ‘পঞ্চ’ অর্থ পাঁচ, আর ‘গড়’ অর্থ বন বা জঙ্গল। ‘পঞ্চগড়’ নামটি এভাবেই এসেছে।
    বিখ্যাত স্থান:
    ভিতরগড়
    মহারাজার দীঘি
    বদেশ্বরী মহাপীঠ মন্দির
    সমতলভূমিতে সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত চা-বাগান
    মির্জাপুর শাহী মসজিদ
    বার আউলিয়ার মাজার
    গোলকধাম মন্দির
    তেঁতুলিয়া ডাকবাংলো
    তেঁতুলিয়া পিকনিক কর্নার
    বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট ও বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর
    রকস্ মিউজিয়াম
    ভিতরগড় দুর্গনগরী

  4. নীলফামারী জেলা
    প্রায় দুই শতাধিক বছর পূর্বে এ অঞ্চলে নীল চাষের খামার স্থাপন করে ইংরেজ নীলকরেরা। এ অঞ্চলের উর্বর ভূমি নীল চাষের অনুকূল হওয়ায় দেশের অন্যান্য এলাকার তুলনায় নীলফামারীতে বেশি সংখ্যায় নীলকুঠি ও নীল খামার গড়ে ওঠে। ঊণবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই দুরাকুটি, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, টেঙ্গনমারী প্রভৃতি স্থানে নীলকুঠি স্থাপিত হয়। সে সময় বৃহত্তর রংপুর অঞ্চলের মধ্যে নীলফামারীতেই বেশি পরিমাণে শস্য উৎপাদিত মাটির ঊর্বরতার কারণে। সে কারণেই নীলকরদের ব্যাপক আগমন ঘটে এতদঅঞ্চলে। গড়ে ওঠে অসংখ্য নীল খামার। বর্তমান নীলফামারী শহরের তিন কিলোমিটার উত্তরে পুরাতন রেল স্টেশনের কাছেই ছিল একটি বড় নীলকুঠি। তাছাড়া বর্তমানে অফিসার্স ক্লাব হিসেবে ব্যবহৃত পুরাতন বাড়িটি ছিল একটি নীলকুঠি। ধারণা করা হয়, স্থানীয় কৃষকদের মুখে ‘নীল খামার’ রূপান্তরিত হয় ‘নীল খামারী’তে। আর এই নীলখামারীর অপভ্রংশ হিসেবে উদ্ভব হয় নীলফামারী নামের।
    বিখ্যাত স্থান:
    ধর্মপালের রাজবাড়ি
    ময়নামতি দুর্গ
    ভীমের মায়ের চুলা
    হরিশচন্দ্রের পাঠ
    সৈয়দপুরের চিনি মসজিদ
    তিস্তা ব্যারাজ প্রকল্প
    নীলফামারী জাদুঘর
    কুন্দুপুকুর মাজার
    দুন্দিবাড়ী স্লুইসগেট
    বাসার গেট
    স্মৃতি অম্লান
    নীলসাগর
  5. লালমনিরহাট জেলা
    লালমনিরহাট নামকরণ নিয়ে জনশ্রুতি আছে যে, বৃটিশ সরকারের আমলে বর্তমান লালমনিরহাট শহরের মধ্যে দিয়ে রেলপথ বসানোর সময় উল্লিখিত অঞ্চলের রেল শ্রমিকরা বন-জঙ্গল কাটতে গিয়ে জনৈক ব্যক্তি ’লালমনি’ পেয়েছিলেন। সেই লালমনি থেকেই পর্যায়ক্রমে লালমনিরহাট নামের উৎপত্তি হয়েছে। অন্য এক সূত্র থেকে জানা যায়, বিপ্লবী কৃষক নেতা নুরুলদীনের ঘনিষ্ঠ সাথী লালমনি নামে এক ধনাঢ্য মহিলা ছিলেন। যার নামানুসারে লালমনিরহাট নামকরণ করা হয়েছে।
    বিখ্যাত স্থান:
    তিন বিঘা করিডোর ও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল
    তিস্তা ব্যারাজ ও অবসর রেস্ট হাউস
    বুড়িমারী স্থলবন্দর
    শেখ ফজলুল করিমের বাড়ি ও কবর
    তুষভান্ডার জমিদারবাড়ি
    কাকিনা জমিদারবাড়ি
    নিদাড়িয়া মসজিদ
    হারানো মসজিদ
    সিন্দুরমতি দীঘি
    কালীবাড়ি মন্দির ও মসজিদ
    বিমানঘাঁটি
    তিস্তা রেলসেতু
    হালা বটের তল
    লালমনিরহাট জেলা জাদুঘর
    দালাইলামা ছড়া সমন্বিত খামার প্রকল্প

     

  6. কুড়িগ্রাম জেলা
    কুড়িগ্রাম জনপদ বেশ প্রাচীন। কুড়িগ্রাম-এর নাম করণের সঠিক ইতিহাস জানা যায়নি। অনেকে মনে করেন গণনা সংখ্যা কুড়ি থেকে কুড়িগ্রাম হয়েছে। কারো মতে কুড়িটি কলু পরিবার এর আদি বাসিন্দা ছিল। তাই এর নাম কুড়িগ্রাম। কেউ বা মনে করেন, রংগপুর রাজার অবকাশ যাপনের স্থান ছিল কুড়িগ্রাম। প্রচুর বন-জঙ্গল ও ফল মূলে পরিপূর্ণ ছিল এই এলাকা, তাই ফুলের কুড়ি থেকে এর নাম হয়েছে কুড়িগ্রাম।
    বিখ্যাত স্থান:
    চান্দামারী মসজিদ
    শাহী মসজিদ
    চন্ডীমন্দির
    দোলমঞ্চ মন্দির
    ভেতরবন্দ জমিদারবাড়ি
    পাঙ্গা জমিদারবাড়ি ধ্বংসাবশেষ
    সিন্দুরমতি দীঘি
    চিলমারী বন্দর
    শহীদ মিনার
    স্বাধীনতার বিজয়স্তম্ভ
    মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিফলক
    পাঙ্গা জমিদারবাড়ির কামান
    বঙ্গ সোনাহাট ব্রিজ
    মুন্সিবাড়ি
  7. গাইবান্ধা জেলা
    গাইবান্ধা নামকরণ সম্পর্কে কিংবদন্তী প্রচলিত আছ, প্রায় পাচ হাজার বছর আগে মৎস্য দেশের রাজা বিরাটের রাজধানী ছিল গাইবান্ধার গোবিন্দগজ থানা এলাকায়। বিরাট রাজার গো-ধনের কোন তুলনা ছিল না। তার গাভীর সংখ্যা ছিল ষাট হাজার। মাঝে মাঝে ডাকাতরা এসে বিরাট রাজার গাভী লুণ্ঠন করে নিয়ে যেতো। সে জন্য বিরাট রাজা একটি বিশাল পতিত প্রান্তরে গো-শালা স্থাপন করেন। গো-শালাটি সুরক্ষিত এবং গাভীর খাদ্য ও পানির সংস্থান নিশ্চিত করতে। নদী তীরবর্তী ঘেসো জমিতে স্থাপন করা হয়। সেই নির্দিষ্ট স্থানে গাভীগুলোকে বেঁধে রাখা হতো। প্রচলিত কিংবদন্তী অনুসারে এই গাভী বেঁধে রাখার স্থান থেকে এতদঞ্চলের কথ্য ভাষা অনুসারে এলাকার নাম হয়েছে গাইবাঁধা এবং কালক্রমে তা গাইবান্ধা নামে পরিচিতি লাভ করে।
    বিখ্যাত খাবার:
    রসমঞ্জরী
    বিখ্যাত স্থান:
    বর্ধনকুঠি
    নলডাঙ্গার জমিদারবাড়ি
    বামনডাঙ্গার জমিদারবাড়ি
    ভতরখালীর কাষ্ঠ কালী
    রাজা বিরাট
    ভবানীগঞ্জ পোস্ট অফিস ও বাগুড়িয়া তহশিল অফিস
    বালাসী ঘাট
    প্রাচীন মাস্তা মসজিদ
    মীরের বাগানের ঐতিহাসিক শাহসুলতান গাজীর মসজিদ

  8. দিনাজপুর জেলা
    জনশ্রুতি আছে জনৈক দিনাজ অথবা দিনারাজ দিনাজপুর রাজপরিবারের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর নামানুসারেই রাজবাড়ীতে অবস্থিত মৌজার নাম হয় দিনাজপুর। পরবর্তীতে ব্রিটিশ শাসকরা ঘোড়াঘাট সরকার বাতিল করে নতুন জেলা গঠন করে এবং রাজার সম্মানে জেলার নামকরণ করে দিনাজপুর।
    বিখ্যাত খাবার:
    লিচু
    কাটারিভোগ চাল
    চিড়া
    পাপড়
    বিখ্যাত স্থান:
    দিনাজপুর রাজবাড়ি
    চেহেলগাজি মসজিদ ও মাজার
    কান্তজিউর মন্দির
    ঘোডাঘাট দুর্গ
    সীতাকোট বিহার
    সুরা মসজিদ
    নয়াবাদ মসজিদ
    রামসাগর
    স্বপ্নপুরী
    স্টেশন ক্লাব
    কালেক্টরেট ভবন
    সার্কিট হাউস ও জুলুমসাগর
    সিংড়া ফরেস্ট
    হিলি স্থলবন্দর
    বিরল স্থলবন্দর